Showing posts with label স্বাস্থ্য তথ্য. Show all posts
Showing posts with label স্বাস্থ্য তথ্য. Show all posts

পেটের চর্বি গলাতে খান শুধু এক গ্লাস…




ফ্ল্যাট স্টমাকের স্বপ্ন আর অধরা নেই। দিনরাত কসরত করেও মেদ ঝড়াতে না-পারলে, একবার এই উপায়টিও করে দেখতে পারেন। এর জন্য খুব বেশি কায়িক পরিশ্রম করতে হবে না। বরং এই পানীয়ের চোখ রাঙাতেই পিছ পা হবে ফ্ল্যাট স্টমাকের শত্রু ফ্যাট। ওজন তো কমবেই সঙ্গে সঙ্গে পাচনতন্ত্রও ভালো ভাবে কাজ করবে। কমবে শরীরের ফোলা ভাব।

বাড়িতে সহজেই তৈরি করা যায় এটি। উপাদান- ১.৮ কাপ জল, ২.১ চামচ গ্রেটেড আদা, ৩.১টি শশা, খোসা ছাড়িয়ে পাতলা স্লাইসে কাটা ৪.০ স্লাইসে কাটা একটি পাতিলেবু ও ৫. ১২টি পুদিনা পাতা ।

কী ভাবে তৈরি করবেন- সমস্ত উপাদান জলে মিশিয়ে সারারাত রেখে দিতে হবে। পরের দিন সকালে এই জল পান করুন।

নিউট্রিশনিস্টদের মতে, হাল্কা ওয়ার্ক আউটের সঙ্গে রোজ এই জল পান করলে খুব শিগগির মেদ ঝড়বে। ফ্ল্যাট স্টমাকের স্বপ্ন আর অধরা থাকবে না।

‘বিস্ময়কর ওষুধ’ রসুন



আমাদের রান্নায় মসলার একটি অংশ রসুন। শুধু মশলা নয় এতে রয়েছে একশরও বেশি রাসায়নিক উপাদান। এ জন্য রসুনকে ‘বিস্ময়কর ওষুধ’ বলা হয়।

রসুনে আছে এন্টি ব্যাকটেরিয়াল, এন্টি-ভাইরাল, এন্টি ফাংগাল এবং এন্টি অক্সিডেন্ট উপাদান। গবেষণায় দেখা গেছে, রসুন খেলে রক্তে কোলেস্টরলের পরিমাণ কমে যায়। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

রসুন ইনফেকশন ও ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী। রক্তে সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া ঠিক রাখে। ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে ইনসুলিনের পরিমাণ ঠিক রাখে। এটি দাঁতের ব্যথাও দূর করে।

১৯৮৯ সালে চীন ও আমেরিকার ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউট যৌথভাবে গবেষণা করে লক্ষ্য করে যেসব অঞ্চলের মানুষ রসুন, পেঁয়াজ বেশি খান এদের পাকস্থলী ক্যান্সারের হার ৪০ শতাংশ কমে যায়।

১৯৮৭ সালে ফ্লোরিডা ক্লিনিকের একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, যারা নিয়মিত তিন সপ্তাহ পর্যন্ত দিনে দুই থেকে তিন কোয়া রসুন গ্রহণ করেছিলেন, তাদের রক্তের শ্বেতকণিকা, ন্যাচারাল কিলার সেলের সংখ্যা ও কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

রসুন খেলে মুখে দূর্গন্ধ হতে পারে। কাঁচা রসুন খাওয়া মাকরুহ তানজিহী। এ কারণে রান্না করে খেতে হয়। রসুন খুব বেশি খেলে অনেকের সামান্য পেটে ব্যাথা হতে পারে।

কেন মৌরি খাবেন

প্রাচীন গ্রিক ও রোমান সভ্যতায় মৌরিকে ওষুধ ও খাবার হিসেবে গ্রহণ করা হতো। গ্রিকরা এটি শরীরের ওজন কমানো এবং প্রসূতি মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করত।

মৌরির পুষ্টি ও ওষধিগুণ
মৌরি খনিজ লবণসমৃদ্ধ একটি বীজ। এতে কপার, আয়রন, পটাসিয়াম, সেলেনিয়াম, জিংক ও ম্যাগনেসিয়াম প্রচুর পরিমাণে আছে। এ ছাড়া আছে ভিটামিন এ, সি, ই এবং কয়েকটি বি ভিটামিন। মৌরি আঁশসমৃদ্ধ এবং এতে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ফ্ল্যাভনয়েড।

* মৌরি বায়ুরোগের জন্য উপকারী, তাই এটা জোলাপ বা ল্যাক্সিটেভ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। পানিমিশ্রিত মৌরির রস পেট ফাঁপা এবং পেট কামড়ের জন্য উপকারী।
* মৌরি হজমের গোলযোগ এবং পেটের গ্যাস কমাতে সাহায্য করে।
* এটা চোখের দৃষ্টিশক্তি এবং প্রসূতি মায়ের বুকের দুধ বাড়ায়।
* মৌরি মুখের প্রদাহ এবং ঠাণ্ডা সারাতে সাহায্য করে। মৌরির পাতা গরম পানিতে সিদ্ধ করে এর ধোঁয়া নিঃশ্বাসের সঙ্গে নিলে অ্যাজমা এবং ব্রঙ্কাইটিস থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
* মৌরি এবং এর পাতার নির্যাস কৃমিনাশক হিসেবে কাজ করে।
* মৌরির আঁশ কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
* এটি কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে সহায়তা করে।
* এটি স্ট্রোক এবং হার্টঅ্যাটাক প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।
* মৌরি শরীরের ওজন কমাতে এবং শরীরের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। মৌরির তেল মালিশ করলে জয়েন্টের ব্যথা কমে।

রোগ নিরাময়ে মৌরি

* সমপরিমাণ ভাজা মৌরি এবং চিনি নিয়ে গুঁড়া করে দুই ঘণ্টা পর পর ঠাণ্ডা পানির সঙ্গে দুই চামচ পরিমাণ মিশিয়ে খেলে পেটের অসুখ ভালো হয়।
* খাওয়ার পরনিয়মিত এক চা চামচ মৌরি হজম শক্তি এবং দৃষ্টিশক্তি বাড়িয়ে দেয়।
* চার চা চামচ মৌরি ২০০ মিলি পানিতে মিশিয়ে ১০০ মিলি না হওয়া পর্যন্ত সিদ্ধ করুন। এরপর ঠাণ্ডা করে পান করুন।
* রাতে ঘুমানোর আগে আধা চা চামচ মৌরি চূর্ণ কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে পান করুন। কোষ্ঠকাঠিন্য সেরে যাবে।
* সমপরিমাণ মৌরি এবং জিরা ভেজে নিয়ে বোতলে ভরে রাখুন। প্রতিদিন খাবারের পর এক চা চামচ করে চিবান, হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে।
* সামান্য ঘি বা মাখন দিয়ে মৌরি ভেজে বোতলে ভরে রাখুন। যখন ধূমপানের ইচ্ছা জাগবে আধা চা চামচ চিবান, নেশা কমে যাবে।

দইয়ের উপকারিতা



গ্রীষ্মের এই মাঝামাঝি সময়ে সারাদিন অসহ্য গরম যেন আকাশ থেকে আগুন ঝরছে। আর ঝাঁঝাঁপোড়া গরম মানেই ঘেমে-নেয়ে একাকার, সারাদিনমান পানির পিপাসা, আহারে অরুচি আর ক্লান্তি। তারওপর যদি আপনার খাবার আপনার অস্বস্তির কারণ হয় তাহলেতো চরম অশান্তি। গরমে অন্তত আপনার পেটকে ঠান্ডা রাখবে দই। গরমে পেট ঠান্ডা রাখতে দইয়ের জুড়ি নেই। জেনে নেই দইয়ের গুনাগুন:
দইয়ের ল্যাক্টোব্যাসিলাস ভাল ব্যাক্টেরিয়াকে উদ্দীপিত করে। তাই অ্যান্টিবায়োটিক খেলে ডায়েটে দই রাখুন। 
দই খেলে পেট পরিষ্কার থাকে। 
দইয়ের ক্যালসিয়াম কোলনের কোষগুলো অস্বাভাবিক বৃদ্ধি রোধ করে, অন্ত্রেও উপকারি ব্যাক্টেরিয়া নিঃসরণ করে। কোলাইটিস রোগে দই ওষুধ হিসেবে কাজ করে। 
দইয়ের ব্যাক্টেরিয়া শরীরে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স অ্যাবজর্ব করতে সাহায্য করে 
ভিটামিন বি-১২ রক্তকোষের গঠনে সাহায্য করে। দই এই ভিটামিন তৈরিতে সাহায্য করে
যারা আমিষ খান তারা খাবারের মাধ্যমে সহজেই এই ভিটামিন পান নিরামিষভোজিরা দইয়ের মাধ্যমে এই ভিটামিন পেতে পারেন। 
দইতে আছে প্রাণিজ প্রোটিন মানে প্রথম শ্রেণীর প্রোটিন। দই- পাওয়া যায় অত্যাবশক অ্যামিনো অ্যাসিড। দুধের প্রোটিন থেকে দইয়ের প্রোটিন সহজে হজম হয়। খাওয়ার ১ঘণ্টা পর দুধের মাত্র ৩২% যেখানে হজম হয়, সেখানে দইয়ের ৯০% হজম হয়
তাই গরমে বাচ্চা বয়স্কদের জন্য দই উপযোগি
দই রক্তে কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে
হাইড্রোলিক অ্যাসিড, পেপসিন রেনিন নিঃসরন করে দই পেটের গ্যাস কমায়
ডায়রিয়া কনস্টিপেশনের সমস্যা কমায়
সালাড, স্যান্ডউইচে মেনোনিজের বদলে দই ব্যবহার করুন দইয়ে ক্যালোরি, ফ্যাট, কোলেরস্টরল কম। তাই গরমে খেতে পারেন দইয়ের ঘোল, রায়তা
প্রতিদিন ডায়েটে কিছুটা খেলে প্রেমাচিওর এজিং, জন্ডিস, হেপাটাইটিস প্রতিরোধ করে

এই গরমে শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত দই খান

সুত্র- ইন্টারনেট





সরিষার তেলের গুনাগুণ ( এন্টি ব্যাকটেরিয়াল তেল )

শীতের সময় সরিষার তেলের মালিশ শরীর কে উষ্ণ রাখে । নিয়মিত এই তেল মালিশ করলে বাতের ব্যাথায় উপকার পাওয়া যায় । এ ছাড়াও সাধারণ সর্দি কাশি , ব্যাথায় তে এই তেলের ব্যবহার উপকারী।


অন্যান্য গুনাগুণঃ
১.শরীরের কলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয় যা হৃদরোগের সম্ভবনা হ্রাস করে
২.নিদ্রাহীনতা এবং ক্যান্সার প্রতিরোধক
৩.সন্ধিস্থলের ব্যাথা হ্রাস করে
৪.শ্বাস কস্টের প্রদাহ হ্রাস করে
৫.চুলের মান উন্নত করা , খুসকি দূর করে এবং চুল বৃদ্ধি করে
৬.মাথা ব্যথা কমায়
৭.দাঁত মজবুত করে এবং ব্যাথা কমায়
৮.শুষ্ক ত্বক মসৃণ ও কোমল করে
৯.ঠোঁটের শুস্কতা দূর করে এবং ত্বকের প্রদাহ দূর করে
১০.কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
১১.নাকের বদ্ধভাব দূর করে
১২.কানের ব্যাথায় কানের ড্রপের বিকল্প
১৩.সামান্য কাটা ছেঁড়ায় এন্টিসেপটিক এর কাজ করে

অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী


অনেকের ধারণা, সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে হলে, ক্রনিক রোগদের দূরে রাখতে হলে, নানা নিয়মের মধ্যে যে শরীরচর্চা, তা কঠোর হওয়া চাই, কড়া হওয়া চাই, তা না হলে সুফল আসবে না।
এ জন্য অনেকে বেশ ভড়কে যান। সে জন্য ব্যায়াম করতেই চান না। মনে করেন কী হবে করে? এত কঠোর শ্রম করতে পারলে তো?
কিন্তু কথাটি ঠিক না। আর সেই কথাটি অনেক তথ্য, তত্ত্ব দিয়ে সাজিয়ে লিখেছেন চমৎকার একটি বই, দ্য ফার্স্ট টুয়েন্টি মিনিটস: সারপ্রাইজিং সায়েন্স রিভিলস হাউ উই ক্যান: এক্সারসাইজ বেটার ট্রেইন স্মার্টার, লিভ লংগার। লেখিকা গ্রিচেন রেনল্ডস। প্রায় এক দশক ধরে নিউইয়র্ক টাইমস-এ Phy Ed কলামে লিখছেন, প্রচণ্ড জনপ্রিয় কলাম: স্বাস্থ্য ও ফিটনেসের বিজ্ঞান বিষয়ে এই সাপ্তাহিক স্বাস্থ্যপ্রতিবেদন সবচেয়ে বেশি ই-মেইল তালিকার শীর্ষে। বইটির উপ-শিরোনাম পড়ে মনে হবে, মানবদেহ সুরক্ষার জন্য ব্যায়ামের যে সম্ভাবনাময় দিক, সে সম্পর্কে সাহসী অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। মিস রেনল্ডসের কাছে থেকে বিস্ময়কর যে পরামর্শ, তা হলো আমাদের সবাইকে অনেক বেশি সময় ব্যায়াম করতে হবে, তা নয়, মানুষের মনে ব্যায়াম সম্পর্কে দুর্ভাবনা দূর করতেই এই পরামর্শ। স্পোর্টস পারফরম্যান্স বাড়াতে যে পরিমাণ ব্যায়াম প্রয়োজন, সাধারণ সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য ততটা ব্যায়াম দরকার নেই। সুস্বাস্থ্য অর্জনের জন্য আমাদের ম্যারাথন দৌড়ানোর প্রয়োজন নেই। এক্সারসাইজ বাইকে ঘাম ঝরানোর দরকার নেই; অক্সিজেন শরীরে গ্রহণ কতটা তুঙ্গে, তা পরিমাপের দরকার নেই। কিছু একটা করলে হয়, ব্যস।
ব্যায়াম বিশাল কৌতূহলোদ্দীপক। বসে থাকার চেয়ে দাঁড়ানো ভালো কেন? কম ব্যায়ামেও কাজ হয়। শুয়ে-বসে থাকা মানুষটি যদি প্রথম ২০ মিনিট চলে-ফিরে বেড়ায়, হাঁটাহাঁটি করে, তাহলে স্বাস্থ্যহিতকর ফল কত পাওয়া যাবে, বলুন। আয়ু বাড়বে, রোগের ঝুঁকি কমবে, প্রথম ২০ মিনিট শরীর সক্রিয় থাকলে সব হিত আসবে।
আমেরিকানদের কথা যদি বলি, দুই-তৃতীয়াংশ লোক কোনো ব্যায়ামই করে না। তাই সেই লোকগুলো যদি উঠে দাঁড়ায়, ২০ মিনিট হাঁটাহাঁটি করে, তাহলে বিশাল লাভ। ২০ মিনিটের বেশি করলে অবশ্য আরও লাভ। তবে ২০ মিনিট যথেষ্ট সুস্বাস্থ্য রাখার জন্য।
অনেকে ওজন হারানোর সঙ্গে ব্যায়ামকে গুলিয়ে ফেলেন। সে জন্য অনেকে ছেড়ে দেন ব্যায়াম, মনে করেন বেশ কষ্ট। অনেকে বাড়তি ওজন হারানোর জন্য ব্যায়াম করেন এবং যখন তাঁরা ব্যায়াম করে অবিলম্বে ওজন না হারান, তখন ব্যায়াম ছেড়ে কোচে প্রত্যাবর্তন করেন। অনেকে বোঝেন না যে ফিটনেস শরীরের মেদ জমার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ব্যায়াম করে শুরুতে মেদ ঝরল না, সে জন্য ফিটনেস অবহেলা করা কেন? হয়তো শরীর একটু ভারী কিন্তু ফিটনেস খুব ভালো অর্থাৎ Vo12Max বা শরীরের অক্সিজেন গ্রহণের পরিমাপ বেশ স্বাস্থ্যকর তাহলে সব ক্রনিক রোগ—ডায়াবেটিস, হূদেরাগ, ক্যানসার কমবে। পছন্দ করে নিতে হবে ফিটনেসকে অগ্রাধিকার হিসেবে, প্রথম প্রথম ওজন কমুক বা না কমুক, কুছ পরোয়া নেহি।
তাই ব্যায়ামের প্রোগ্রাম শুরু করা চাই ফিটনেস উন্নত করার জন্য, ওজন প্রথম কমুক বা না কমুক।
দীর্ঘ জীবন ও সুস্থ জীবন অর্জন করা যাবে। মানুষ যদি ব্যায়াম করাকে ভালো থাকার, সুস্থ থাকার দীর্ঘ জীবন লাভ করার উপায় হিসেবে দেখে, তাহলে ভালো। কেবল ক্ষীণতনু হওয়ার জন্য ব্যায়াম, তা কেন?
ব্যায়াম সম্পর্কে জনমনে যে ভুল ধারণা, তা-ও দেখিয়েছেন গ্রিচেন রেনল্ডস। এমন মনে করেন অনেকে, ব্যায়াম হতে হবে খুব শ্রমসাধ্য, ব্যায়াম মানে ম্যারাথন দৌড় বা বাইকে তিন ঘণ্টা ব্যায়াম করা বা তেমন কঠোর কোনো ব্যায়াম। অত্যন্ত ভুল এই ধারণা।
আর এই ভুল ধারণা অনেককে ব্যায়াম করতে নিরুৎসাহিত করে। যদি হাঁটতে থাকেন, তাহলে শরীর চিহ্নিত করে যে শরীর রয়েছে চলমান এবং সে জন্য সব রকম শারীরবৃত্তিক পরিবর্তন ঘটে ইতিবাচক, সে পথে শরীর যায় সুস্বাস্থ্যের পথে। বাগানে কাজ করাও কিন্তু ভালো ব্যায়াম। ব্যায়াম এই কঠিন শব্দকে ভুলে গিয়ে আমরা যদি ভাবি; চলমান হব, আরও বেশি নড়ব-চড়ব, বসে থাকব না, তা আরও ভালো নয় কি?
গ্রিচেন রেনল্ডস হেলথ কলামে প্রায়ই তিনি লিখতেন, শুয়ে-বসে জীবনযাপনের অহিত দিকগুলো সম্বন্ধে। তিনি বইটি লেখার পর নিজের ফিটনেস প্রোগ্রামেও আনলেন পরিবর্তন। ব্যায়াম শুরু করার স্ট্রেচিং শুরু করলেন। উঠ-বস ব্যায়ামও যোগ হলো। ব্যায়ামের সময় সজল থাকার কৌশলও জানলেন।
কেবল পিপাসিত বোধ করলেই জলপান করলেই হয়, এতেই ঠিক থাকে সব।
ব্যায়াম এত করতে হয় না। অনেকের সময়ের অভাব, কেবল সে জন্যই নয়, স্বাস্থ্যবান থাকার জন্য খুব বেশি সময় ব্যায়াম করতে হয় না। খুব প্রতিযোগিতামূলক শরীরচর্চাও দরকার নেই।
সুস্থ থাকাটাই বড় কথা। দীর্ঘজীবন সুস্থ থাকতে গেলে ওইটুকু ব্যায়াম যথেষ্ট।
এখন তিনি দু-তিন মাইল দৌড়ান। আগে পাঁচ মাইল দৌড়াতেন, এর প্রয়োজন নেই। আগে মনে হতো পাঁচ মাইল না দৌড়ালে ব্যায়াম হলো না। এখন দেখা যায় ২০ মিনিট বা আধা ঘণ্টা ব্যায়ামই যথেষ্ট, সুস্থ থাকার জন্য।
বসে থাকা কেন? মাঝেমধ্যেই দাঁড়িয়ে পড়া ভালো। এমন হয় অনেকেই একটানা চার-পাঁচ ঘণ্টা বসে কাজ করতে হয়, তাঁরা ২০ মিনিট পরপর দাঁড়িয়ে একটু হাঁটাচলা করলেন। একটানা এত সময় বসে থাকলে অনেক রকম রোগের আশঙ্কা বাড়ে, তাই একে দমাতে হলে কাজটি হলো উঠে দাঁড়ানো ও হাঁটা। সে সময় চলমান না হতে পারলেও সিট থেকে উঠে দাঁড়ালেও অনেক লাভ। ফোনে কথা বলার সময় উঠে দাঁড়ান, বসে বসে ফোনালাপ না-ই বা করলেন।
বেশি সময় না বসে বেশি সময় দাঁড়ান।
মানুষ যদি সুস্থ থাকতে চায়, দীর্ঘদিন সজীব-সতেজ হয়ে বাঁচতে চায় তাহলে রেনল্ডসের পরামর্শ, ‘হাঁটুন’। সহজতম ব্যায়াম। সবাই যা করতে পারে।
কেউ যদি হাঁটতে না চান তাঁদের জন্য—সাঁতার কাটুন।
চলমান থাকার জন্য নানা বিকল্প রয়েছে, যা কিছু আহত করে, ব্যথা পান যা করে, তা করবেন না। ব্যায়ামের যন্ত্রপাতি কেনার প্রয়োজন নেই।
একজোড়া আরামদায়ক জুতো হলে হয়, স্লিকারস কিনতে হবে কেন? অনেকের ধারণা, ব্যায়াম পর্ব বেশ জটিল হওয়া চাই, হার্টবিট মনিটর, একজন কোচ, যন্ত্রপাতি, বিশেষ নির্দেশ-উপদেশ। কিন্তু সত্যি, এর প্রয়োজন নেই। মানব শরীর সত্যি একটি চমৎকার কোচ।
শরীরের কথা যদি শোনেন, তাহলে এই মহাশয় বলে দেবে, কখন কঠোর ব্যায়াম করছেন। যদি ব্যথা লাগে কমিয়ে দিন। ব্যায়াম করবেন, ভালো লাগবে, মাত্র ভালো লাগছে, এটুকু চাই। চলমান হোন, নড়াচড়া চলুক সহজ-সরল, জীবনটা বদলে যাবে।

অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
পরিচালক, ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস, বারডেম হাসপাতাল, সাম্মানিক অধ্যাপক ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ, ঢাকা।
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, জুলাই ০৫, ২০১২

রেফ্রিজারেটর না থাকলে…



গ্রীষ্মকালীন এবং উষ্ণ আর্দ্র স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় কাঁচা শাকসবজি, মাছ-মাংস টাটকা রাখতে হলে নিতে হবে সঠিক পদ্ধতি। বলছিলেন রন্ধনশিল্পী সিতারা ফেরদৌস। তাঁর পরামর্শ—

পাকা মিষ্টিকুমড়া, পাকা চালকুমড়া, পাকা শসা—এসব অক্ষত অবস্থায় বাইরে রেখে দিলে অনেক দিন ভালো থাকে।
কাঁচকলা, পটল, ঝিঙা, পেঁপে—এসব রান্নাঘরের তাকের নিচে একটা ঝুড়িতে সাজিয়ে ঠান্ডা স্থানে ছড়িয়ে রেখে দিলে দিন চারেক ভালো থাকে। খেয়াল রাখতে হবে, একটার গায়ে যেন অন্যটা লেগে না যায়।
শজনে ডাঁটা ভেজা কাপড়ে পেঁচিয়ে ১৫-১৬ দিন বা তারও বেশি সময় রাখা যেতে পারে, তবে প্রতিদিনই কাপড়টা তুলে দেখতে হবে এবং পুনরায় ভিজিয়ে রাখতে হবে।
কাঁচা মরিচ, ধনেপাতা বোঁটা ফেলে কাগজের ঠোঙায় পেঁচিয়ে রাখলে পাঁচ-ছয় দিন ভালো থাকে।
আদা, আলু ঠান্ডা স্থানে বালির ভেতর রেখে দিলে অনেক দিন ভালো থাকে।
সবজি, ফল যেকোনো জিনিস রেফ্রিজারেটরে রাখতে হলে ছিদ্র করা পলি প্যাকে রাখলে ভালো থকবে।
মানকচু, ওলকচু, কলার থোড়—এসব প্রাকৃতিকভাবেই ভালো থাকে অনেক দিন।
কই মাছ, শিং মাছ, মাগুর, শোল, টাকি—এসব মাছ পানিতে জিইয়ে রেখে অনেক দিন খাওয়া যায়। তবে মাঝেমধ্যে পানি পরিবর্তন করতে হবে এবং মাছ তাজা আছে কি না, তা লক্ষ রাখতে হবে।
ইলিশ মাছ মাটির পাত্রে লবণ মাখিয়ে লোনা করে রেখে দেওয়া যায়। আবার আঁশটা না ছাড়িয়ে প্যাকেট করে আস্ত ইলিশ ডিপ ফ্রিজে রাখলে ভালো থাকে।
ছোট মাছ ডিপ ফ্রিজে পলিপ্যাক অথবা কন্টেইনারে পানিসহ রেখে দিলে টাটকা মাছের স্বাদ পাওয়া যাবে।

বাজার করে এনে



প্রতি মাসে হয়তো একসঙ্গে পুরো মাসের বাজার করে থাকেন অনেকে। আবার প্রতি সপ্তাহে বাজার করতে পছন্দ করেন কেউ কেউ। কিন্তু বাজার যখনই করা হোক না কেন, সেটা তো ঠিকমতো ফ্রিজে তুলে রাখতে হবে। বাজার থেকে কাঁচা শাকসবজি, মাছ-মাংস এনে টাটকা রাখার উপায় সম্পর্কে জেনে নিন।

‘বাজার থেকে মাছ-মাংস এনে বেশিক্ষণ বাইরে রাখলে তাতে ব্যাকটেরিয়া জন্মায়। ফলে দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এ জন্য বাজার থেকে আনার সঙ্গে সঙ্গে রান্না করার অংশটুকু রেখে প্রক্রিয়াজাত করে দ্রুত ঠান্ডা স্থানে রাখতে হবে। যেকোনো শাকসবজি বাজার থেকে এনে প্রক্রিয়াজাত করে রাখলে তাতে পুষ্টিগুণ অটুট থাকবে, আর টাটকাও থাকবে।’ বলছিলেন পুষ্টিবিদ সিদ্দিকা কবীর। তাঁর পরামর্শ—

যেকোনো ধরনের শাকপাতা তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। এ জন্য বাজার থেকে আনার সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার করে ছড়িয়ে রাখতে হবে। এরপর শাকের গায়ে লেগে থাকা পানি শুকিয়ে গেলে প্লাস্টিক কন্টেইনারে রেফ্রিজারেটরে রাখতে হবে।
ধনেপাতা, পুদিনাপাতা ধুয়ে কতক্ষণ পানি ঝরিয়ে ছড়িয়ে রাখার পর প্লাস্টিক কন্টেইনারে রাখতে হবে। তবে অবশ্যই এর গোড়াগুলো পরিষ্কার করে তবে মুখবন্ধ পাত্রে রাখতে হবে।
অন্যান্য যেকোনো সবজি বাজার থেকে এনে ময়লা পরিষ্কার করে রেফ্রিজারেটরে রাখতে হবে। তবে কিছু কিছু তরকারি, যেমন—পটল তাড়াতাড়ি রান্না করে ফেলতে হবে, না হলে পচে যাবে।
বাজার থেকে মাছ-মাংস এনে যতখানি রান্না করা দরকার, ততখানি বাইরে রেখে বাকিটা প্রয়োজনমতো পর্যাপ্ত পরিমাণ প্যাকেট করে কিংবা কন্টেইনারে ডিপ ফ্রিজে রাখতে হবে।
মাছ-মাংস প্যাকেট করার আগে এমনভাবে পরিষ্কার করে রাখতে হবে, যেন রক্ত না লেগে থাকে।
ডিপ ফ্রিজে (মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়) মাছ-মাংস রাখলে অনেক দিন ভালো থাকে।
ডিপ ফ্রিজে না রাখতে চাইলে রান্না করে মাছ-মাংসের তরকারি ঠান্ডা করে রেফ্রিজারেটরে রাখা যেতে পারে।